শহরের বিলবোর্ডে যে মেকী হাসিধারী মডেলগুলো ঝুলে থাকে,

বিশ্বাস করো তাঁদের চাইতেও ভীষণ মোহময়ী তুমি

মাটিতে তশরিফ রাখলে , হুমড়ি খেয়ে পড়ে আবালবৃদ্ধ সব ।

আমিও তাঁদের দলে ছিলাম আর ভেবেছিলাম তুমি কী স্বর্গের মত

নিষ্পাপ ও নিখাদ ? কিন্তু কে জানতো বল তো ?

তুমি যে এক অসাধারণ অভিনেত্রী ও বহুরূপী !



যখন তোমার ভক্ত কুকুরের দল আক্রমণ করে তোমার মানুষ ভক্তদের,

তখন মানুষ ভক্তসকল প্রতিবাদী হলেই তুমি ঘোষনা করো

“বন্ধু সকল আপনারা সহনীয় হোন কামড়কে কামড় নয় চুমু ভাবুন!”

অথচ তোমার পোষা শূয়োরটাকে কেউ তাড়া করলেই তুমি বসিয়ে দাও

তোমার শান্ত প্রাণবন্ত হিংস্র দাঁত !



কী আশ্চর্য ! তোমার এই দ্বিচারী অভিনয় কেন বল তো এত মধুর লাগে ?

প্রতিদিন তুমি তোমার পোষা শূয়োরের গায়ে ঠোঁট ঘষে

গোলাপের কাছে আসো ঠোঁটদুটোকে পবিত্র করবার জন্য ।

সে নাহয় হলো, কিন্তু গন্ধ গোকুলের মত তোমার বিকট সত্তাকে

কী করে ঢেকে রাখো বল তো ? কেমন করে নিষ্পাপ মায়াবি হতে পারো ?



তোমাকে কিছু বলবার সাহস কারুর নেই

কিছু বলতে গেলেই তোমার পোষা দাঁতালু শূয়োরটা তেড়ে আসবে

ভক্তসকল ভয়ে মরবে যদি তোমার হাসি থেকে তারা বঞ্চিত হয়

তাই সকলে স্তিমিত হয়ে যায়, ক্রমশ ক্ষয়ে যায় তোমাকে হারাবার ভয়ে

আমিও তাদের দলে । কে চায় বল শূয়োরের ঘোঁৎ ঘোঁৎ ডাক শুনতে ?

কে চায় বল তোমার মোহ থেকে দূরে যেতে !



তবে অপেক্ষা করো প্রিয়তমা আমার

তুমি একদিন ঠাঁই পাবে এই জগতের শ্রেষ্ঠ কোন জাদুঘরে

কাঁচঘেরা বাক্সে তোমাকে সাজানো হবে তোমার চাইতেও মোহময়ী করে

টিকিট কেটে এসে কিছু যুবক আমার পক্ষ হয়ে তোমাকে ঘৃণাভরে থুথু ছুঁড়ে মারবে

কাঁচ ঘেরা থাকবে বলে ভেবো না তুমি বেঁচে যাবে

কারণ ঘৃণা কাঁচকেও যে ভেদ করতে জানে !!