পাঠাও চালানোর সুবাদে এক মেয়ের সাথে আমার পরিচয় হয়। মেয়েটা ধানমণ্ডিতে থাকে। মেয়েটার পিক আপ রিকুএস্ট পাই সাইন্সল্যাবের পিছনের গলি থেকে। এই সময় রাত ৮.৩০ থেকে ৯.৩০ টার মদ্ধেই। মেয়েটা নিসন্দেহে অসম্ভব সুন্দর। আমার ও ভাল্লাগলো তাকে। তার বাসার গলির সামনে তাকে নামায় দিলাম। গলিটা মনে রাখার সুবিধার জন্য আশে পাশে তাকালাম দেখি গলির শেষ মাথায় এক বিশাল বট গাছ। গাছটার সাথেই মনে হয় তার বাড়ি।ঠিক আছে বট গাছের গলি হিসেবেই জায়গাটা আমার মনে গেথে গেল। বাসায় আসতে ওইদিন রাত হইসে বেশ। টায়ার্ড ছিলাম তাই আগে আগেই ঘুমায় গেছি। মাঝ রাতে ঘুম ভাংসে আমার কেন জানি। অনেকক্ষন চেস্টা করার পর ও ঘুম না আসায় আমার মাথায় শয়তানি বুদ্ধি আসলো। মেয়েটাকে মিসকল দেব। এমন ছেস্রামি আমি প্রায়ই করি। মেয়েদের নাম্বার সেভ করা আর মাঝে মাঝে মিস কল দিয়ে জালানো। তিন চারবার মিস কল দিলাম টানা। ৫ মিনিট পর কল ব্যাক করলো।

- বিরক্ত করতেসেন কেন?

- কে বিরক্ত করতেসে?

- জানেন না?

- আমি তো করি নাই তাহলে কিভাবে বলব? মনে হয় ভূতে করছে!

মেয়েটা আর কোন কথা বলে নাই ফোন টা কেটে দিল। কন্ঠে একটা ঠান্ডা ভাব আছে কেমন যেন মায়াবি। আমি ততক্ষনে মেয়েটার বাড়িতে আম্মাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে পাঠাব বলে ঠিক করে ফেলছি। কিন্তু তার আগে ভাবলাম মেয়েটার সাথে একটু পরিচিত হওয়া যাক সারাজীবন যেহেতু একসাথেই থাকতে হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। পরের দিন আমি সেম সময়ে সেম জায়গায় পাঠাও অন কইরে হাজির। পাঠাও আর ব্যবহার করার প্রয়োজন পরে নাই তাকে দেখি দাড়ায় আছে। আমি সামনে যাই আর হাসি দিয়ে জিজ্ঞেশ করি

-আজকেও কি বাসায় যাচ্ছেন?

-হুম।

-আমিও এখানে আসছিলাম কাজে। পাঠাও এ যাবেন? তাহলে রিকুএস্ট দেন এক্সেপ্ট করি? সেম জায়গায়ই তো রাইট?

-হুম।

-আচ্ছা কালকের ভাড়াই দিয়েন, রিকুএস্ট দিতে হবে না, পরে অন্য কেউ পাইলে বাড়তি ঝামেলা!

মেয়েটা চুপ ছিল আমি আরেকটু জোর দেওয়াতে রাজি হয়ে গেল। অনেক কথা হইল রাস্তায়। আমি ইনিয়ে বিনিয়ে অনেক খোঁজ খবর নিলাম। বাবা ব্যাবসার কাজে বিদেশে থাকে। এখানে মা আর দুই বোন থাকে। সেম জায়গায় নামাইলাম। বটগাছের গলি। মেয়েটা বোরকা পড়ত তবে অন্য রকম। সারা গা ঢাকা। আমার মনে মনে ভালই লাগত, আমার মা ও একটু ইসলামিক কিনা। সেদিন রাতে আমাদের সারা রাত কথা হইল। প্রেমের বয়স এখন এক মাস। আম্মাকে বলসি ওর কথা। আম্মা খুবই নারাজ। সে পছন্দ করে না আমি পাঠাও চালাই আর এই উছিলায় মেয়ে পটসে ব্যাপারটা তার কাছে আরও আপত্তির। আম্মার পছন্দের মেয়েকে আমি ওর জন্য না করে দিছি ফোন দিয়ে, তার এখন অন্য পরিবারে বিয়ের কথা চলতেসে এতে আম্মা আরও বিরক্ত আমার উপরে। আমিতো মহা খুশি। রাস্তা ক্লিয়ার। কয়েকদিন প্রেম করব এরপরই বিয়া। আরও এক মাস এম্নে প্রেম করলাম। একদিন হইসে কি, আমি ওকে বাসায় নামায় দিয়ে চলে যাচ্ছি হঠাৎ ও আমার পিছন থেইকে গেঞ্জি টেনে ধরছে। আসলে এমন ও সব সময়ই করে। আমি ঘুরলাম আমাকে জিজ্ঞেস করতেছে

-আমাকে ছেড়ে কখনো যাবা না তো?

-না, কক্ষনো না!

কন্ঠে আমার তিব্র আত্মবিশ্বাস।

-চলে গেলে কিন্তু খুন কইরে ফেলব!

-তাহলে আর সেটা হচ্ছে না কজ আমি যাব না তোমাকে ছাইড়ে।

আমার খুবই ভালো লাগতেসিল। একটা অপরিচিত মেয়ে আমাকে এত ভালবাসতে পারে? আমাকে? আমার কি যোগ্যতা আছে যে কেউ আমাকে ভালবাসবে? নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। দুই দিন পরের ঘটনা। দুইটা গেঞ্জি কিনে দিসে আমাকে মাত্র। একটা পড়তে হইসে সাথে সাথেই রীতিমতো জোর করে, আরেকটা রাইখে দিছি আমি আবার শপিং করি না অমন ভাল্লাগে না। সো এই গেঞ্জিটা পরে কাজে লাগবে। ওকে নামায় দিলাম গলির সামনে। লাম্প পোস্টের লাইট আর গাছের ছায়ায় গলিটা কেমন একটু ভূতুড়ে ভূতুড়ে লাগতেসিল। এজন্য কিছুক্ষন অপেক্ষা করলাম ও যাক দেন যাবো। ও চলে যাচ্ছে আর আমি ওর চলার পথের দিকে অপলক তাকায় আছি! কি যে ভাল লাগতেছে। কিন্তু কিচ্ছুক্ষণ তাকায় থাকার পর খেয়াল করলাম, ওর পা উল্টা!

হ্যা, পা উল্টা। নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারলাম না আবার দেখলাম দেখতেই থাকলাম নাহ পা তো সোজা হয় নাই পা এখনো উল্টা! গলির শেষ মাথায় বট গাছটার নিচে গিয়ে কেমন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল! কোনদিন আমি দাড়াইনি ওর জন্য আমাকে আগে পাঠায় দিয়ে ও এরপরে যাইতো।

আজকে দুই দিন আমার ফোন বন্ধ। পাঠাও নিয়ে ও বাইর হই নাই। ওর সাথেও কোনো যোগাযোগ নাই এই দুই দিন। আম্মা মনে হয় মনে করছে ঝগড়া হইসে কিন্তু কিছু জিজ্ঞেস করে নাই। আমিও বলি নাই কিছু। আব্বা আমার সামনে বইসে আছে ডাইনিং টেবিল এ খাচ্ছে। পড়নে ওর দেওয়া নতুন আরেকটা গেঞ্জি যেইটা রাইখে দিসিলাম। নতুন পায়া পইড়ে ফেলসে। আব্বু খাওয়া শেষে হাত ধুয়ে বারান্দায় গেছে হাত মুছতে, বারান্দা থেকে আইশে বলে তাকে নাকি পেছন থেকে কে গেঞ্জি টেনে ধরসে। ৭ তলার বারান্দায় কে এত রাতে তার গেঞ্জি টেনে ধরবে? আম্মা তো হাসতে হাসতে শেষ। এত রাতে কে তাকে টান দিবে পিছন থেকে? কিন্তু আমার হাসি আসতেসে না। আব্বুর গায়ে সেই গেঞ্জি! মেই বি আমাকে ভাইবে মিসটেক করছে। পরে কি হইছে সেটা না বললাম তবে এই মুহুর্তে যা হচ্ছে, আব্বুর রুমের জানালা দরজা সব বন্ধ, আব্বুর জানালায় এলপাতারি বাড়ী দিচ্ছে জানালা খোল জানালা খোল বইলে, ভিতরে আব্বু হাউ মাউ কইরে কাদতেসে, আম্মা জোরে জোরে সুরা ইয়াসিন পড়তেসে, আর আমি বাথরুমে লুকায় আছি।


লেখাঃ সংগ্রহ